জেফার ও রাফসানকে ঘিরে প্রেমের গুঞ্জন শুরু হওয়ার পর থেকেই দুজনই বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিলেন। তাদের দাবি ছিল—এটি নিছকই বন্ধুত্ব ও সহকর্মিতার সম্পর্ক। বিদেশ সফর থেকে শুরু করে একসঙ্গে সময় কাটানোর নানা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মন্তব্য করতে অনাগ্রহী ছিলেন তারা।
গুঞ্জন থামাতে সবচেয়ে বেশি সরব ছিলেন জেফার। একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যকে ভিত্তি করে প্রেমের গুজব ছড়ানো যুক্তিসংগত নয়। রাফসানকে তিনি বহুদিন ধরে চেনেন, একসঙ্গে কাজ করেছেন—ফলে আড্ডা বা একসঙ্গে কোথাও দেখা যাওয়াটা স্বাভাবিক। প্রেমের তত্ত্বকে তিনি তখন ‘উদ্ভট’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।
রাফসানও একই বক্তব্য দেন। ব্যক্তিগত জীবনে কাকে তিনি চেনেন বা কার সঙ্গে কাজ করেন—সেটিকে প্রেমের সম্পর্ক হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয় বলে জানান তিনি।
ঠিক এমন সময় প্রকাশ্যে আসে রাফসান সাবাবের দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদের খবর। তিন বছরের সংসার ভাঙার বিষয়টি নিজেই জনসমক্ষে আনেন তিনি। এরপরই কথা বলেন তার স্ত্রী সানিয়া সুলতানা এশা—যেখানে তিনি জানান, বিচ্ছেদ তার ইচ্ছায় হয়নি। এখান থেকেই নতুন করে আলোচনায় আসে জেফার–রাফসানের সম্পর্ক।
ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অনেকেই মন্তব্য করতে থাকেন—জেফারের সঙ্গে প্রেমের কারণেই নাকি সাবাবের সংসার ভেঙেছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকলে একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে নিজের অবস্থান জানান রাফসান। সেখানে তিনি বলেন, এটি আকস্মিক কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না; দেড় বছর আগেই বিচ্ছেদের বিষয়ে দুই পরিবার অবগত ছিল এবং শেষ সময় পর্যন্ত আলোচনাও চলেছিল।
তবে আলোচনার গতি কমেনি, বরং সময়ের সাথে আরও গাঢ় হয়েছে। সব জল্পনা-সমালোচনার মাঝেও জেফারের বক্তব্য একই ছিল—ডিভোর্স রাফসানের ব্যক্তিগত ব্যাপার, আর তাদের মধ্যে প্রেম নেই।
দুই বছর ধরে একের পর এক ব্যাখ্যা, নীরবতা ও অস্বীকারের পর অবশেষে চিত্র পাল্টাতে শুরু করে। রাফসানের নিকটজনরা জানান, জেফার ও রাফসান বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বুধবার সকালে ঢাকার বাইরে গায়েহলুদ এবং সন্ধ্যায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
এটি রাফসান সাবাবের দ্বিতীয় বিয়ে হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। যে সম্পর্ককে এতদিন গুজব হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত বাস্তব রূপ পাচ্ছে। দুই বছরের জল্পনা, গুঞ্জন ও বিতর্কের পর জেফার–রাফসান সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।

